বাগেরহাটের -২ আসন। চলুন জেনে আসি ধানের শীষের কে এই ব্যারিস্টার জাকির হোসেন

বর্মব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন : ন্যায়, নেতৃত্ব ও জাতীয়তাবাদের অনুশীলনে এক দৃঢ় ব্যক্তিত্বঅ-অ+ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। জন্ম পীর খাজা খানজাহানের স্মৃতিবিজড়িত পূণ্যভূমি বাগেরহাট শহরে। বেড়ে উঠেছেন এই শহরের ধূলিকণা আর কাদামাটি  গায়ে মেখে।  শৈশব-কৈশোরের দূরন্ত  দিনগুলো কেটেছে খরস্রোতা ভৈরব ও দড়াটানার লোনাজলের সঙ্গেই মিতালী গড়ে। শিক্ষাজীবনের শুরু বাগেরহাটেই। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন এই শহরেই। উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেন ঐতিহ্যবাহী সরকারি পিসি কলেজে। যৌবনের সোনালী সময় কেটেছে পদ্মাপাড়ের সবুজ ক্যাম্পাস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ন্যায় বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মহানব্রতকে সামনে রেখে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন আইনকে। ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন ন্যায়বিচারের চর্চাকে শুধু আদালতের পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখেননি—বরং এটিকে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি সংবিধান, প্রশাসনিক, ব্যাংকিং, করপোরেট, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিশি আইনক্ষেত্রে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।বর্তমানে তিনি দেশের অন্যতম খ্যাতনামা আইন প্রতিষ্ঠান সুপ্রিম ল’ চেম্বার্স বাংলাদেশ –এর হেড অব চেম্বার এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী লিংকনস ইন (Lincoln’s Inn) থেকে Barrister-at-Law ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের আইনশিক্ষার পথ ধরে তিনি পেশাগত জীবনে প্রবেশ করেন। এছাড়া তিনি লন্ডনের বিপিপি ইউনিভার্সিটি কলেজ থেকে PgDL, ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডন থেকে LL.M in International Human Rights এবং ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে LLB (Hons) সম্পন্ন করেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ে মাস্টার্স অব কমার্স (M.Com) ডিগ্রিও অর্জন করেন তিনি।তিনি ১৯৯৭ সালের ৩ মার্চ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হন, ১৯৯৯ সালের ১০ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিসের অনুমতি পান, এবং ২০১৫ সালের ২০ ডিসেম্বর আপিল বিভাগে তালিকাভুক্ত হন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর তিনি সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পান—যা তাঁর দীর্ঘ পেশাগত নিষ্ঠা ও প্রজ্ঞার স্বীকৃতি। বাগেরহাট জেলার সন্তান ব্যারিস্টার জাকির হোসেন তাঁর পেশাগত নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও নৈতিক মূল্যবোধের জন্য আইনাঙ্গনে এক অনন্য মর্যাদা অর্জন করেছেন। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে তাঁর পথচলা আজও অব্যাহত।  বিশ্বাস করেন—আইন পেশার মূল দর্শন হলো “ন্যায়ের প্রতি অঙ্গীকার”। তাঁর মতে, আইনজীবীর প্রকৃত শক্তি যুক্তি ও সততায়। ১৯৬৯ সালে বাগেরহাট সদর উপজেলায় জন্ম নেওয়া এই আইনজীবী শৈশব থেকেই ছিলেন মেধাবী ও সামাজিকভাবে সচেতন। তিনি একজন রত্নগর্ভা মায়ের সন্তান। যিনি — ২০১৩ সালে সন্তানদের শিক্ষা ও পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘রত্নগর্ভা পদক’-এ ভূষিত হন।ব্যারিস্টার জাকিরের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯২ সালে, শাহ মখদুম হলের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদানের মধ্য দিয়ে। ছাত্র রাজনীতি থেকে পেশাজীবনে এসে তিনি দ্রুতই আইনি অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। ১৯৯৭ সালে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে তিনি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের চেম্বারে যুক্ত হন। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার ভাই সাঈদ ইস্কান্দার, গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, লুৎফর রহমান আজাদসহ বিএনপি ও জিয়া পরিবারের সদস্যদের—  পক্ষে আদালতে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন। এরপর পেশাগত উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান তিনি। ওয়ান ইলেভেনের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সেখানে যুক্তরাজ্য বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সঙ্গে যুক্ত হন। যুক্তরাজ্যে তিনি ছিলেন ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। ২০০৭ সালে খালেদা জিয়ার গ্রেফতারের প্রতিবাদে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের কাছে প্রতিবাদলিপি দেন এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।২০১১ সালে দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে আবারও আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস শুরু করেন। যোগ দেন বাগেরহাট জেলা বিএনপি ও  জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামে। আওয়ামী লীগের দুঃসাশনকালে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সুপ্রিম কোর্ট শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।রাজনীতির পাশাপাশি তিনি মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে তিনি ছিলেন আপোসহীন। এই দুঃসময়ে বিএনপিদলীয় নেতাকর্মীদের তিনি আইনি সহায়তা প্রদান করেছেন নিঃস্বার্থভাবে। কারাবন্দি, নির্যাতিত ও নিপীড়িত পরিবারগুলোর পাশে থেকেছেন একান্ত মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে। তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার— বাগেরহাটে শিক্ষা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, মংলা বন্দর আধুনিকীকরণ এবং সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। রাজনীতিতে তাঁর বিশ্বাস দৃঢ়। তিনি মনে করেন— “বিএনপি একটি সহনশীল ও গণতান্ত্রিক দল, প্রতিহিংসায় নয়, বিশ্বাস করে জাতীয় ঐক্য ও সহিষ্ণুতায়।”তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমানের আদর্শই আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আমি চাই তাঁর পথ ধরে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের মুক্তির রাজনীতিতে অবদান রাখতে।

Previous
Previous

জনমত। বাগেরহাট-২। ব্যারিস্টার জাকির হোসেন

Next
Next

বাগেরহাট-২: ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের উন্নয়ন এজেন্ডা ঘোষণা