দুদক চেয়ারম্যান আবদুল মোমেন ও দুই কমিশনারের পদত্যাগপত্র জমা
নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং সংস্থাটির অন্য দুই কমিশনার পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তারা নিজ নিজ পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগকারী অন্য দুই কমিশনার হলেন মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ।
মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৩৬ মিনিটে তারা সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনে প্রবেশ করেন এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন। নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় এই শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল ঘটল।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চেয়ারম্যান আবদুল মোমেন বলেন, “নতুন সরকারের নিজস্ব প্রত্যাশা ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ সুগম করতেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একটি রাজনৈতিক সরকার তার নিজস্ব ম্যান্ডেট অনুযায়ী কাজ করতে চাইবে, এটাই স্বাভাবিক। আমরা অনুভব করেছি যে আমাদের চেয়ে অধিকতর যোগ্য ব্যক্তিদের কাজ করার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এতে রাষ্ট্র ও কমিশন উভয়ই উপকৃত হবে।”
অন্যদিকে, কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী জানান, তিনি ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছেন এবং আইন অনুযায়ী সরকারকে এক মাসের নোটিশ দিয়েছেন। তারা কোনো চাপের মুখে নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ছিলেন। ২০১৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল, তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তাকে পুনরায় দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়।
দুদক আইন ২০০৪ অনুযায়ী, কমিশনের চেয়ারম্যান বা কোনো কমিশনার ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করতে চাইলে রাষ্ট্রপতি বরাবর এক মাস আগে লিখিত আবেদন করতে হয়। পদত্যাগকারী কর্মকর্তাদের বিদায়ের মধ্য দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে এখন নতুন নেতৃত্বের পথ তৈরি হলো।

