ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ কোটি ডলারের রাডার ধ্বংস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত হেনেছে ইরান। জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ব্যয়বহুল ‘থাড’ (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ৩০ কোটি ডলার মূল্যের এই ‘এএন/টিপিওয়াই–২’ রাডারটি অকেজো হওয়ায় ওই অঞ্চলে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের ছবিতে জর্ডানের ওই ঘাঁটিতে রাডারটি ধ্বংস হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। পরে একজন মার্কিন কর্মকর্তাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত বায়ুমণ্ডলের শেষ সীমানায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত এবং ধ্বংস করার জন্য ‘থাড’ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। এর রাডারটি ধ্বংস হওয়ায় এখন ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর পুরো চাপ পড়বে ‘প্যাট্রিয়ট’ ব্যবস্থার ওপর। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার ‘পিএসি-৩’ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ইতিমধ্যে কমে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রসিজ’-এর সামরিক বিশেষজ্ঞ রায়ান ব্রবস্ট বলেন, “যদি ধ্বংসের বিষয়টি সম্পূর্ণ সত্য হয়, তবে এটি হবে ইরানের অন্যতম সফল আক্রমণ।” সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) তথ্যমতে, সারা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র আটটি ‘থাড’ ব্যাটারি রয়েছে। এগুলোর প্রতিটি সরঞ্জামের উৎপাদন অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অতিরিক্ত কোনো রাডার নেই যা দিয়ে এই ক্ষতি দ্রুত পূরণ করা সম্ভব।

প্রতিটি থাড ব্যাটারি পরিচালনায় ৯০ জন সেনা এবং প্রায় ১০০ কোটি ডলার মূল্যের সরঞ্জাম প্রয়োজন হয়। এর ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিটি ইউনিটের দামই ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। শুধু জর্ডান নয়, যুদ্ধের শুরুতে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি স্থায়ী রাডার স্থাপনা ‘এএন/এফপিএস-১৩২’ ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রমাগত পাল্টা হামলায় মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন চরম চাপের মুখে। এই সংকট মোকাবিলায় পেন্টাগন ইতিমধ্যে লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্সের মতো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছে। দ্রুত অস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সংস্থাগুলোকে চাপ দিচ্ছে হোয়াইট হাউস। তবে এই মুহূর্তে একটি কৌশলগত রাডার হারানো মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Previous
Previous

নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট আর হয়েছে জুলাই বিপ্লবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা: নাহিদ

Next
Next

মধ্যপ্রাচ্যের অগ্নিকুণ্ড ও চীনের দোটানা: অর্থনৈতিক ঝুঁকি বনাম কৌশলগত সমীকরণ