সরকারে ব্যস্ত নেতারা, সাংগঠনিক স্থবিরতায় বিএনপি’র অঙ্গসংগঠন
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর দল ও সরকারের দ্বৈত ভূমিকায় তৈরি হয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ। দলের মূল নেতাসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা এখন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন। এর ফলে সংগঠনে দেখা দিয়েছে এক ধরনের ‘ছন্দপতন’। বিশেষ করে নয়াপল্টন ও গুলশান কার্যালয়ের চিরচেনা ভিড় এখন অনেকটাই সচিবালয় ও মন্ত্রীদের বাসামুখী।
সংশ্লিষ্টদের মতে, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষকদল এবং ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন সরকারি কাজে ব্যস্ত থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষকদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা বর্তমানে সংসদ সদস্য। এর মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় দলীয় কার্যালয়ে তাঁর উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে। তৃণমূলের কর্মীদের অভিযোগ, নেতারা অফিসমুখী না হওয়ায় অনেক সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত আটকে আছে।
সংগঠনগুলোর বর্তমান চিত্র:
যুবদল: ১ বছর ৬ মাস পার হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। ৬ সদস্যের আংশিক কমিটি দিয়েই চলছে কাজ।
স্বেচ্ছাসেবক দল: শীর্ষ দুই নেতাই এমপি এবং একজন প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় রাজপথে সক্রিয়তা কমেছে।
ছাত্রদল: আগামী ১ মার্চ বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রসংসদ নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না পাওয়া এবং নেতাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতায় চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
কৃষকদল: শীর্ষ দুই নেতাই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
তৃণমূলের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা এখন রাজপথের পরীক্ষিত মুখদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি তুলছেন। তাদের মতে, একসঙ্গে দল এবং সরকারের দায়িত্ব পালন করা কঠিন। সামনের দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অঙ্গসংগঠনগুলোতে ‘সার্বক্ষণিক’ নেতৃত্ব প্রয়োজন।
দলের হাইকমান্ডও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ভাবছেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান জানিয়েছেন, পরিবর্তন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং দল নতুন নেতৃত্ব আনলে তারা স্বাগত জানাবেন। নয়াপল্টনে নেতা-কর্মীদের ভিড় কমে যাওয়া এবং সচিবালয়মুখী হওয়ার প্রবণতাকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। দ্রুতই এসব অঙ্গসংগঠনে বড় ধরনের রদবদলের ইঙ্গিত মিলছে।

