মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত, ইরানে ৪০ দিনের শোক
নিজস্ব প্রতিবেদক |
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক অভাবনীয় মোড় নিয়ে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নিশ্চিত করেছে যে, তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে পরিচালিত এই যৌথ অভিযানের পর ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
অপারেশন এপিক ফিউরি ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, অত্যন্ত উন্নত ট্র্যাকিং সিস্টেম ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। ট্রাম্প একে ইরানি জনগণের জন্য তাদের দেশ পুনরুদ্ধারের "একমাত্র মহত্তম সুযোগ" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) এবং পুলিশ বাহিনী সাধারণ জনগণের সাথে মিলে শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে।
নেতানিয়াহুর দাবি ও মরদেহের অবস্থান
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগেই জানিয়েছিলেন যে, খামেনির বেঁচে না থাকার বিষয়ে "অসংখ্য লক্ষণ" পাওয়া গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স একজন উর্ধ্বতন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, তেহরানে তার দপ্তরের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে খামেনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই হামলাটি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ ছিল বলে জানা গেছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও উত্তরসূরি
খামেনির মৃত্যুতে ইরানি শাসনব্যবস্থায় এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। যদিও ইরানের তাসনিম ও মেহর নিউজ এজেন্সি শুরুতে দাবি করেছিল যে খামেনি নিরাপদ আছেন, পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করা হয়। ওয়াশিংটনের স্টিমসন সেন্টারের ফেলো বারবারা স্লাভিনের মতে, ইরান সম্ভবত একটি বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার পরিকল্পনা করে রেখেছে।
সামরিক ক্ষেত্রে বর্তমানে মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আবদুল্লাহি জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের ময়দানে শত্রুদের সমুচিত জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত এবং সশস্ত্র বাহিনীর মনোবল আগের চেয়েও দৃঢ়।
বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির হত্যাকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে আরও বড় আকারে ছড়িয়ে দিতে পারে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছেন যে, এই পাল্টাপাল্টি হামলা বিশ্বশান্তির জন্য চরম হুমকি। লন্ডনের ‘দি অবজার্ভার’ এই হামলাকে "ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিহীন একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ" হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে তেহরানের রাজপথে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, যেখানে অনেকেই শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের আশা করছেন।

