ওমানের দুকম বন্দরে ড্রোন হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে শান্ত দেশ ওমানেও। দেশটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুকম বন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই হামলায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে তিন দিনের ব্যবধানে একই বন্দরে এটি দ্বিতীয় হামলার ঘটনা। এর আগে গত রবিবার দুকম বন্দরে দুটি ড্রোন আঘাত হানলে একজন শ্রমিক আহত হন। তখন একটি ড্রোন শ্রমিকদের আবাসনে এবং অন্যটি জ্বালানি ট্যাঙ্কের কাছে আছড়ে পড়েছিল। এছাড়া সোমবার রাজধানী মাস্কাটের উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে একজন ভারতীয় ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন।
ওমান ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত। গত মাসেই মাস্কাটে দুই পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এমন একটি নিরপেক্ষ দেশে বারবার হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের লক্ষ্যবস্তু সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। সোমবার কাতারের স্থাপনায় ইরানি হামলার পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্ব সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। একই সময়ে সৌদি আরবও তাদের বৃহত্তম তেল শোধনাগারের উৎপাদন স্থগিত রেখেছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ চালাচ্ছে। ওমান সরকার এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

