সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা এবং ইরানে ইসরায়েলি বিমান হামলা বৃদ্ধি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা এক নতুন ও ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সৌদি আরবের দাহরানে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট এক জরুরি নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় ওই এলাকায় 'আসন্ন' ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানে 'নেতৃত্বের কম্পাউন্ড' লক্ষ্য করে নতুন করে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
দাহরানের মার্কিন কনস্যুলেট তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, “দাহরানে যেকোনো সময় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হতে পারে। কেউ বাইরে বের হবেন না এবং কনস্যুলেট চত্বরে আসবেন না। নিজ নিজ বাসস্থানের জানালার থেকে দূরে এবং নিচের তলায় অবস্থান নিন।” সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কনস্যুলেট কর্মীরাও বর্তমানে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন।
এদিকে, তেহরানের 'প্রেসিডেন্সিয়াল অফিস' বা রাষ্ট্রপতির কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল কমপ্লেক্স এবং একটি সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রচুর গোলাবারুদ বর্ষণ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ব্যবহৃত কার্যালয়টিও এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর 'প্রতিষেধক' হিসেবে বড় ধরনের আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েল। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। গত বছর জুনে ১২ দিনের বিমান যুদ্ধের পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘাত। ইরানও এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক সম্পদের ওপর পাল্টা হামলা শুরু করেছে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমাদের সাথে কূটনৈতিক সমাধানের আশা এখন ফিকে হয়ে আসছে। একইসাথে ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুর ঘটনার পর নতুন করে এই যুদ্ধ দেশটিতে এক চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে।

