গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও স্থানীয় সরকারকে গতিশীল করাই মূল লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রাষ্ট্র পুনর্গঠন এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করা।
বুধবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা হবে এবং সেগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সরকার একটি বড় লক্ষ্য সামনে রেখে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর মূল দর্শন হলো ‘বিল্ড দ্য নেশন’ বা জাতি পুনর্গঠন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মন্ত্রিসভা সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং প্রতিটি কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে গণতন্ত্র।
জেলা পরিষদ, উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন পদ বর্তমানে শূন্য থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, এসব পদ দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে পূরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যদিও এটি রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে খুব শিগগিরই নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
এই মন্ত্রণালয়ে অতীতে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দ্রুত কাজগুলো গুছিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
বিভিন্ন দপ্তরে দুর্নীতি ও সুশাসনের অভাব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করা এবং মানুষের সমস্যাগুলো সমাধান করাই সরকারের অগ্রাধিকার। আগের সরকারের সময়কার অনিয়মগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ধীরে ধীরে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে এবং ব্যাংকিং খাতও নিয়ন্ত্রণে আসছে। পরিস্থিতি যতটা খারাপ বলা হচ্ছে, বাস্তবে সরকার তা মোকাবিলা করতে সক্ষম হচ্ছে।
পবিত্র রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে বিকেলে অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এছাড়া গত ১৮ মাসের উপদেষ্টা পরিষদের কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং গণতন্ত্রে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে বেশ কিছু ইতিবাচক কাজ করেছেন।

