সরকারের প্রতি সবার অধিকার সমান: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে তারেক রহমান বলেছেন, নতুন সরকার গঠনের সুযোগ দিতে যারা ভোট দিয়েছেন, যারা দেননি কিংবা যারা কাউকেই ভোট দেননি—সবাই এই সরকারের সমান অধিকারভুক্ত নাগরিক। বুধবার রাতে দেওয়া এই ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে—দল, মত, ধর্ম বা দর্শন যার যার হলেও রাষ্ট্র সবার। এই দেশে প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের অধিকার সমানভাবে নিশ্চিত করা হবে। আইনের শাসন মেনে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, দেশের সব সাংবিধানিক, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত নীতি ও নিয়ম মেনেই পরিচালিত হবে; কোনো দলীয় প্রভাব বা জোরজবরদস্তির স্থান থাকবে না।
তিনি বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী জনগণের কারণেই দেশে মানুষের অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড় বা সমতলে বসবাসকারী সব নাগরিকের জন্য বাংলাদেশকে নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।
নতুন সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে জুয়া ও মাদকের বিস্তারকে আইনশৃঙ্খলা অবনতির বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে এগুলো দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
দেশবাসীকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। এই সময়ে অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ করেন, দ্রব্যমূল্য যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে। তিনি বলেন, অনিয়ম ও সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তা—উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কাজ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবসায়ীদের যেকোনো পরামর্শ বা অভিযোগ সরকার শুনতে প্রস্তুত।
রমজান মাসে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সব স্তরে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে কৃচ্ছতা সাধনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির সংসদীয় দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে—নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য সরকারি সুবিধা হিসেবে ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি বা প্লট নেবেন না। ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ অনুসরণ করেই রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা করবে সরকার।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, দেশে ফিরে তিনি ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ ঘোষণা করেছিলেন। নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে সেই পরিকল্পনার অনেক বিষয় জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন। এখন জনগণের দেওয়া দায়িত্ব পালনে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কথাও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ও বিভাগীয় শহরগুলোতে যানজট কমাতে নতুন পরিকল্পনায় কাজ চলছে। পাশাপাশি সারাদেশে রেল যোগাযোগকে সহজ, সুলভ ও নিরাপদ করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং রেল, নৌপথ, সড়ক ও সেতু খাতের কার্যক্রম সমন্বয় করা হবে।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে দক্ষ জনসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেবে। কর্মসংস্থান ও উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পাঁচ দিন পর গতকাল তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ২৯৭টি আসনের মধ্যে এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শপথ নেওয়ার পরদিন থেকেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন।

