‘সংঘাত আমরা শুরু করিনি, তবে আমরাই শেষ করব’: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক |

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানকে এক চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাত শুরু না করলেও তারাই এটি শেষ করবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী, জটিল এবং নির্ভুল আকাশপথের অভিযান।

হেগসেথ তার পোস্টে লিখেছেন, “আমেরিকানদের লক্ষ্য করে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আমরা সহ্য করব না। সেই সব ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা হবে। এমনকি ধ্বংস করে দেওয়া হবে ইরানের নৌবাহিনীকেও।” তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আজীবনের অঙ্গীকার অনুযায়ী ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পাবে না। হেগসেথ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি আপনি বিশ্বের কোথাও আমেরিকানদের হত্যা করেন বা হুমকি দেন—যেমনটা ইরান করেছে—তবে আমরা আপনাদের খুঁজে বের করব এবং হত্যা করব।”

গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই যৌথ অভিযানে তেহরানসহ ইরানের প্রধান শহরগুলো ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক হুমকি স্থায়ীভাবে নির্মূল করতেই এই পদক্ষেপ। ইতিমধ্যে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নিশ্চিত করেছে যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে নিজ বাসভবনে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। এর ফলে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বিশাল এক প্রতিশোধমূলক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে। কাতার, কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলের তেল আবিব এলাকায় যুদ্ধের সাইরেন বাজছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিচ্ছে। পুরো অঞ্চলটি এখন এক অনিশ্চিত ও ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

Previous
Previous

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে আলোচনা

Next
Next

খামেনির মৃত্যুতে ইরানে অন্তর্বর্তীকালীন লিডারশিপ কাউন্সিল গঠিত হলো