হরমুজ প্রণালিতে শুধুমাত্র ইসরায়েল ও পশ্চিমা জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞাঃ ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছিল ইরান। তবে সম্প্রতি তেহরান জানিয়েছে, এই কৌশলগত জলপথটি পুরোপুরি বন্ধ না করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর কোনো জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে না।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিওমার্স হায়দারি গতকাল তাসনিম নিউজকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইউরোপীয় দেশগুলো এবং যারা সরাসরি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিচ্ছে, তাদের জন্য এই রুট নিষিদ্ধ। তবে যেসব দেশ এই জোটের বাইরে, তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা নেই।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে অন্তত ১০টি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আইআরজিসি স্পষ্ট করেছে যে, তাদের লক্ষ্যবস্তু কেবল শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর সম্পদ।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলপিজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’ হিসেবে পরিচিত এই রুটটি আংশিক অবরুদ্ধ হওয়ার খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘায়িত হলে পশ্চিমা দেশগুলোতে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করবে।

এদিকে, ইরান একটি ইতিবাচক সংকেতও দিয়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, চলমান যুদ্ধে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর কোনো হামলা চালানো হবে না—যদি না তাদের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়। এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের এই 'বাছাইকৃত অবরোধ' বিশ্ব অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Previous
Previous

মধ্যপ্রাচ্যের অগ্নিকুণ্ড ও চীনের দোটানা: অর্থনৈতিক ঝুঁকি বনাম কৌশলগত সমীকরণ

Next
Next

পরিকল্পিত জাকাত ব্যবস্থাপনায় দারিদ্র্য বিমোচনের নতুন রূপরেখা দিলেন প্রধানমন্ত্রী