ধর্মীয় ভ্রাতৃত্ব বনাম ভূ-রাজনীতি: পাকিস্তান ও আফগানিস্তান কেন যুদ্ধে?

বিশেষ প্রতিবেদন |

পাকিস্তান ও আফগানিস্তান—উভয়ই ইসলামি প্রজাতন্ত্র এবং প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্র। মানচিত্রের এই দুই দেশের মানুষের মধ্যে কেবল ধর্মীয় বন্ধনই নয়, বরং শক্তিশালী জাতিগত ও সাংস্কৃতিক মিলও রয়েছে। তা সত্ত্বেও আজ তারা ‘উন্মুক্ত যুদ্ধে’ লিপ্ত। প্রশ্ন জাগে, অভিন্ন ধর্ম থাকা সত্ত্বেও কেন এই ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত? এর উত্তর লুকিয়ে আছে কয়েক দশকের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, সীমান্ত বিতর্ক এবং জাতীয় নিরাপত্তার জটিল মারপ্যাঁচে।

ডুরান্ড লাইন: মানচিত্রের এক অমীমাংসিত ক্ষত

১৮৯৩ সালে ব্রিটিশদের টানা ‘ডুরান্ড লাইন’ এই দুই দেশের প্রধান বিবাদের কারণ। পাকিস্তান একে আন্তর্জাতিক সীমান্ত মনে করলেও আফগানিস্তানের কোনো সরকারই একে স্বীকৃতি দেয়নি। এই রেখাটি পশতুন জনগোষ্ঠীকে দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছে। আফগানদের কাছে এটি একটি কৃত্রিম সীমানা, যা তাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানে। ফলে সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনা সবসময়ই অগ্নিগর্ভ ছিল।

টিটিপি (TTP) ও নিরাপত্তার সংকট

পাকিস্তানের মূল অভিযোগ হলো—আফগান তালিবান তাদের মাটিতে ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (TTP)-কে আশ্রয় দিচ্ছে। টিটিপি গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে ভয়াবহ সব সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তান বারবার এই বিদ্রোহীদের দমনের দাবি জানালেও কাবুল তা এড়িয়ে যাচ্ছে। ইসলামাবাদের মতে, ধর্মীয় ভ্রাতৃত্বের দোহাই দিয়ে তালিবানরা আসলে সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, যা পাকিস্তানের অস্তিত্বের জন্য হুমকি।

কৌশলগত ও আদর্শিক দ্বন্দ্ব

আফগানিস্তানের বর্তমান শাসক গোষ্ঠী মনে করে, সীমান্ত কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা বা পাকিস্তানের খবরদারি তাদের জাতীয় মর্যাদার পরিপন্থী। অন্যদিকে, পাকিস্তান তার সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে প্রতিবেশী দেশে বারবার বিমান হামলা চালাচ্ছে। ধর্মের দোহাই এখানে জাতীয় স্বার্থের কাছে পরাজিত হচ্ছে।

ধর্মীয় পরিচয় সাময়িকভাবে সংহতি দিলেও রাষ্ট্রব্যবস্থায় ‘জাতীয় স্বার্থ’ ও ‘সীমানা রক্ষা’ সবসময়ই বড় হয়ে দাঁড়ায়। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস, সীমান্ত বিরোধ এবং সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এই দুই মুসলিম দেশের ভ্রাতৃত্বের চেয়েও এখন অনেক বেশি শক্তিশালী।

Previous
Previous

জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে আন্তরিকভাবে কাজ করুন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Next
Next

ইরানে আমেরিকা ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা: ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু