ইরানে আমেরিকা ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা: ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু
শনিবার ভোরে ইরানজুড়ে স্মরণীয় এক সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় ঘোষণা করেছেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সামরিক সক্ষমতা ‘পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন’ করতে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury) নামক এক বিশাল সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে।
হামলার বিস্তৃতি ও বর্তমান পরিস্থিতি
ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সর্বোচ্চ নেতার বাসভবন ও দপ্তরের নিকটবর্তী পাস্তুর ডিস্ট্রিক্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা আকাশপথে টমাহক মিসাইল উড়ে যেতে এবং শহরজুড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ একে একটি ‘প্রতিরোধমূলক হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হামলার পর ইরান, ইরাক এবং ইসরায়েল তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও আহ্বান
ফ্লোরিডা থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের মিসাইল শিল্প ধুলোয় মিশিয়ে দেব এবং তাদের নৌবাহিনীকে ধ্বংস করব।” তিনি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (IRGC) আত্মসমর্পণের বিনিময়ে ‘নিরাপত্তা’ অথবা ‘নিশ্চিত মৃত্যু’র পথ বেছে নেওয়ার চরমপত্র দিয়েছেন। সাধারণ ইরানিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের মুক্তির সময় সমাগত। আমরা কাজ শেষ করার পর আপনারা আপনাদের সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিন।”
ইরানের পাল্টা আঘাত ও আঞ্চলিক উত্তেজনা
হামলার জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে পরমাণু আলোচনা চললেও, ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে ইরান আলোচনার সুযোগ নষ্ট করেছে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওমান জানিয়েছে, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে রাজি হয়েছিল, কিন্তু ট্রাম্পের এই আকস্মিক হামলা সেই সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।

