অন্তর্বর্তী সরকারের তড়িঘড়ি করা মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি পর্যালোচনার আহ্বান সিপিডি-র

নিজস্ব প্রতিবেদক |

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিটি দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি এই 'বৈষম্যমূলক' চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানায়।

বাণিজ্য চুক্তিতে উদ্বেগের কারণ:

সিপিডি-র গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, "অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড" নামক এই চুক্তিতে এমন কিছু ধারা রয়েছে যা বাংলাদেশের বাণিজ্য নীতি নির্ধারণের স্বায়ত্তশাসন খর্ব করতে পারে। চুক্তির শর্তানুসারে, বাংলাদেশ মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে বাধ্য থাকলেও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মার্কিন পক্ষ বাড়তি শুল্ক আরোপের সুযোগ পাবে। এছাড়া মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স আরোপে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি এলডিসি (LDC) উত্তরণ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

জ্বালানি খাতের সংস্কার ও সক্ষমতা চার্জ:

জ্বালানি খাতের অস্থিরতা দূর করতে সিপিডি নতুন কোনো জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদন না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বর্তমানে চাহিদার ভুল প্রক্ষেপণের কারণে বিপুল পরিমাণ অলস বিদ্যুৎকেন্দ্রকে 'ক্যাপাসিটি চার্জ' বা সক্ষমতা কর দিতে হচ্ছে। সিপিডি-র মতে, ২০৪০ সাল নাগাদ বিদ্যুতের চাহিদা যেখানে ৩০ গিগাওয়াট হতে পারে, সেখানে সরকারি প্রক্ষেপণে তা ৪০-৫০ গিগাওয়াট দেখানো হয়েছে। এই অপচয় রোধে ভবিষ্যতে 'নো ইলেকট্রিসিটি, নো পে' নীতি চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

অর্থনীতির অন্যান্য চ্যালেঞ্জ:

সংবাদ সম্মেলনে দেশের ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাত এবং দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত (৬.৮%) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। দুর্নীতি ও প্রশাসনিক জটিলতাকে ব্যবসার প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে একটি 'ব্যাংকিং ওমানডসম্যান' বা ব্যাংকিং লোকপাল নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

সিপিডি মনে করে, নতুন সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে এলডিসি উত্তরণ ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে রাজস্ব আহরণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছ নীতি নির্ধারণে আমূল সংস্কার প্রয়োজন।

Previous
Previous

ইরানে আমেরিকা ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা: ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু

Next
Next

পাক ও আফগানের ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’: আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ ইসলামাবাদের