পাক ও আফগানের ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’: আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ ইসলামাবাদের

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যবর্তী সীমান্ত সংঘাত এখন ‘উন্মুক্ত যুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে। গত তিন দিন ধরে চলা এই ভয়াবহ সংঘর্ষে উভয় পক্ষই ভারী ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বারবার যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার আহ্বান জানানো হলেও, পাকিস্তান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে আফগানিস্তানের সাথে এই মুহূর্তে কোনো সংলাপ হবে না।

সপ্তাহখানেক আগে আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় গত বৃহস্পতিবার থেকে দুই দেশের সীমান্তে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। আজ শনিবার পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু এলাকায় একটি মসজিদে ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, আফগান তালিবান বাহিনী পাকিস্তানের মিরানশাহ ও স্পিনওয়াম সামরিক ক্যাম্পে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক গণমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানিয়েছেন, "কোনো আলোচনা বা সংলাপ হবে না। আফগানিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করতে হবে।" পাকিস্তানের মূল অভিযোগ—আফগান তালিবান তাদের মাটিতে টিটিপি (TTP) সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে, যা কাবুল অস্বীকার করে আসছে।

উভয় পক্ষই পরস্পরবিরোধী নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেছে; পাকিস্তান দাবি তাদের ১২ জন সৈন্য এবং ২৭৪ জন তালিবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে, অপরদিকে তালিবানের দাবি তাদের ১৩ জন যোদ্ধা এবং ৫৫ জন পাকিস্তানি সৈIন্য নিহত হয়েছে।

জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইরানসহ প্রতিবেশী দেশগুলো দ্রুত উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি এখনো থমথমে। পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান সামরিকভাবে শক্তিশালী হলেও, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে অভিজ্ঞ তালিবান বাহিনীও কড়া জবাব দিচ্ছে।

সংঘাতের ঐতিহাসিক পটভূমি:

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বর্তমান ‘উন্মুক্ত যুদ্ধের’ শিকড় অনেক গভীরে। এর প্রধান কারণ ১৮৯৩ সালে ব্রিটিশদের টানা বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন সীমান্ত, যা আফগানিস্তান কখনোই বৈধ বলে স্বীকার করেনি। ফলে সীমান্তের দুই পাশেই পশতুন জনগোষ্ঠীর বসবাস এবং যাতায়াত অনিয়ন্ত্রিত রয়ে গেছে।

২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালিবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর পাকিস্তান আশা করেছিল তাদের সীমান্ত নিরাপদ হবে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি উল্টো হয়েছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) তাদের হামলা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান তালিবান এই জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় ও সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। অন্যদিকে, আফগানিস্তান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাকিস্তানের সামরিক আগ্রাসনকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে। এই দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস ও ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াই আজ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিয়েছে।

Previous
Previous

অন্তর্বর্তী সরকারের তড়িঘড়ি করা মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি পর্যালোচনার আহ্বান সিপিডি-র

Next
Next

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আধুনিক কাঠামো নিশ্চিত করা হবে: তথ্যমন্ত্রী